প্রচ্ছদ > খেলা > ফুটবল

নীল আগুন বনাম মরুভূমির জেদ

article-img

ফ্রান্স বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস তৈরি করা এক দল, অন্যদিকে বহু বছর অপেক্ষার পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসা ইরাকের ফুটবল স্বপ্ন। তিন পয়েন্টের হিসাব নেই, আছে টিকে থাকার লড়াই।

ফ্রান্স মাঠে নামছে আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী এবং বড় টুর্নামেন্ট জেতা এক দল হিসেবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফ্রান্সের যাত্রা গৌরবময়। ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১৮ সালে আবারও শিরোপা জিতে তারা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দেশে পরিণত হয়। ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়ার স্মৃতি এখনও জ্বলজ্বল করছে । গত তিন দশকে বিশ্বকাপ মানেই ফ্রান্স।

ফরাসি দলটির সামনে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যার গতি একাই ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারে। পাশে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে। মাঝমাঠে আদ্রিয়েন রাবিও ছন্দ তৈরি করেন।

চলতি বিশ্বকাপেও শুরুটা করেছে আগমনী বার্তা দিয়ে। প্রথম ম্যাচে ৩–১ গোলে হারিয়েছে সেনেগালকে। ম্যাচে দুই গোল করেন এমবাপ্পে, আর একটি গোল আসে ব্র্যাডলি বারকোলার কাছ থেকে। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স দেখিয়েছে কেন তারা এখনো শিরোপার দাবিদারদের তালিকার শীর্ষে। এক ম্যাচে ৩ পয়েন্ট, গ্রুপ আই-এ তারা এখন শক্ত অবস্থানে আছে। এই ম্যাচ জিতলে নকআউট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে ফ্রান্সের।

ইরাকের গল্প একেবারেই অন্যরকম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইরাকের নাম খুব বড় নয়, আবেগে অনেক বড়। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। সেই আসরে তিন ম্যাচই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ চার দশক। যুদ্ধ, অস্থিরতা, প্রজন্ম বদল সবকিছুর পর ২০২৬ সালে আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে তারা। এই ফিরে আসাটাই তাদের জন্য এক ধরনের জয়।  

প্রথম ম্যাচে ইরাক মুখোমুখি হয়েছিল নরওয়ের। ফল ছিল ৪–১ ব্যবধানে হার। কিন্তু সেই স্কোরলাইনের ভেতরে লড়াইও ছিল। নরওয়ের হয়ে দুই গোল করেন আর্লিং হালান্ড, পরে লিও ওস্টিগার্ড ও শেষদিকে আরেকটি গোল ব্যবধান বাড়ায়। ইরাকের হয়ে গোল করেন আইমেন হুসেইন। কিছু সময় ম্যাচে ফিরে এলেও অভিজ্ঞতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানে তারা। এখন তাদের পয়েন্ট শূন্য। আর তাই ফ্রান্স ম্যাচ তাদের জন্য প্রায় বাঁচা-মরার লড়াই।

ফ্রান্স ও ইরাক আগে কখনো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়নি। বড় টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটিই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।

কৌশলগতভাবে ম্যাচটি হতে পারে বল দখল বনাম ধৈর্যের যুদ্ধ। ফ্রান্স চাইবে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরাককে নিজেদের অর্ধে আটকে ফেলতে। দ্রুত পাস, উইং আক্রমণ আর মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ হবে তাদের অস্ত্র। অন্যদিকে ইরাক অপেক্ষা করবে সেই একটি সুযোগের জন্য। একটি কাউন্টার, একটি কর্নার, কিংবা প্রতিপক্ষের একটি ভুল।  

কাগজে-কলমে ফ্রান্স অনেক এগিয়ে। ইতিহাস, স্কোয়াড, অভিজ্ঞতা সবই তাদের পক্ষে। কিন্তু এখানে সব হিসাব সব সময় মেলে না।

আজ ফ্রান্স নামবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। ইরাক নামবে নিজেদের অস্তিত্ব মনে করিয়ে দিতে।